ডিএমকে ছেড়ে বিজয়ের পাশে কংগ্রেস! তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পালাবদলের নেপথ্যে কী?
Published: May 6, 2026 | India Politics Desk
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক। দীর্ঘদিনের সহযোগী ডিএমকের সঙ্গে সম্পর্ক কার্যত ভেঙে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে (Tamilaga Vettri Kazhagam)-র পাশে দাঁড়াল কংগ্রেস। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টিভিকে-র ঐতিহাসিক জয়ের পর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
কংগ্রেস স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সমর্থন শুধুমাত্র সরকার গঠনের জন্য নয়। ভবিষ্যতের লোকসভা, রাজ্যসভা এবং পুরসভা নির্বাচনেও দুই দলের জোট বজায় থাকবে। তবে শর্ত একটাই — সংবিধানে বিশ্বাস না করা “সাম্প্রদায়িক শক্তি”-কে দূরে রাখতে হবে।
কংগ্রেস দাবি করেছে, তারা জনমতের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বিজেপিকে তামিলনাড়ুতে আটকাতেই এই জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
“বিজয় সুনামি” আগে থেকেই টের পেয়েছিল কংগ্রেসের একাংশ
মাত্র দুই বছরের পুরনো দল হয়েও টিভিকে-র অভূতপূর্ব জয় গোটা দেশকে অবাক করেছে। তবে কংগ্রেসের কিছু শীর্ষ নেতা নাকি অনেক আগেই “বিজয় সুনামি”-র আভাস পেয়েছিলেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সাংসদ মানিক্কাম ঠাগোর এবং কংগ্রেসের পেশাদার শাখার প্রধান প্রবীণ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ডিএমকের বদলে বিজয়ের সঙ্গে জোট করার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু শুরুতে কংগ্রেস নেতৃত্ব ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি। তারা ডিএমকের সঙ্গে আলোচনায় বসে প্রায় ৪০টি আসন এবং মন্ত্রিসভায় জায়গা দাবি করে। ডিএমকে সেই দাবি সরাসরি খারিজ করে দেয়।
অন্যদিকে বিজয়ের টিভিকে কংগ্রেসকে প্রায় ৬০টি আসন এবং সরকারে অংশীদারির প্রস্তাব দেয় বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই দুই দলের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ বাড়তে থাকে।
ডিএমকের অভিযোগ “বিশ্বাসঘাতকতা”
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ডিএমকে নেতৃত্ব। তারা এই পদক্ষেপকে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে কংগ্রেসের বক্তব্য, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই গণরায়কেই সম্মান জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের জনপ্রিয়তা, যুব ভোটব্যাঙ্ক এবং নতুন রাজনৈতিক ইমেজ তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই কারণেই কংগ্রেস শেষ মুহূর্তে কৌশল বদল করে।
বিজেপিকে আটকাতেই বড় জোট?
কংগ্রেস সূত্রের দাবি, এই জোটের মূল উদ্দেশ্য হল বিজেপিকে তামিলনাড়ুতে শক্তিশালী হতে না দেওয়া। বিজয়ের জনপ্রিয়তা এবং কংগ্রেসের সংগঠন একসঙ্গে এলে ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন — বিজয় কি শুধুই সিনেমার সুপারস্টার থাকবেন, নাকি তামিলনাড়ুর আগামী দিনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক মুখ হয়ে উঠবেন?
