গদিতে বসতেই শুভেন্দুর কাছে বড় আর্জি! বাস স্ট্যান্ডে ‘দাদাগিরি’ ও তোলাবাজি বন্ধের দাবিতে সরব মালিকপক্ষ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতেই চড়তে শুরু করেছে প্রত্যাশার পারদ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে না নিতেই এবার দীর্ঘদিনের এক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সরব হলেন বাস মালিকরা।
হাওড়া-দিঘা বাস স্ট্যান্ডে বছরের পর বছর ধরে চলা ‘তোলাবাজি রাজ’ বন্ধ করার জন্য সরাসরি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল বাস মালিক সংগঠন।
ঠিক কী অভিযোগ বাস মালিকদের?
হাওড়া স্টেশনের গা ঘেঁষে থাকা হাওড়া-দিঘা বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ২০০-র বেশি বাস যাতায়াত করে।
বাস মালিকদের অভিযোগ, ২০০৮ সাল থেকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এখানে বেআইনিভাবে টাকা তোলা হচ্ছে। অভিযোগের আঙুল এতটাই গুরুতর যে, মালিকদের দাবি— প্রতিদিন প্রতিটি বাস পিছু ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়, অথচ রসিদ দেওয়া হয় মাত্র ৫০ টাকার।
মালিকপক্ষের আর্তনাদ
‘অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’-র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় এই বিষয়ে অত্যন্ত কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিনের পর দিন এই তোলাবাজি চলতে থাকলে বাস চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাঁদের দাবি, কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে জুটছে হুমকি, এমনকি শারীরিক হেনস্থাও।
বাইরের কোনো বাস স্ট্যান্ডে ঢুকলেও তাঁদের কাছ থেকে মোটা টাকা দাবি করা হচ্ছে।
পরিবর্তনের অপেক্ষায় পরিবহণ ক্ষেত্র
পরিবহণ ব্যবসায়ীদের মতে, এই তোলাবাজি শুধু মালিকদের পকেট কাটছে না, বরং রাজ্যের সামগ্রিক গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা এই ‘সিন্ডিকেট রাজ’ থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই তাকিয়ে আছেন।
নতুন সরকারের এই ‘অ্যাকশন মোড’-এ বাস মালিকদের এই আবেদনে মুখ্যমন্ত্রী কী সাড়া দেন, এখন সেটাই দেখার। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী— সকলেরই আশা, এবার হয়তো হাওড়া বাস স্ট্যান্ডের এই দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলায় ইতি পড়বে।
