বাড়িতে ঝুলছে তালা! ভোটের সকালে বেপাত্তা ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ফলতায় ১৫ বছর পরে ‘ভয়হীন’ ভোটের দাবি সাধারণ মানুষের
Published By: NewsLinkBangla | West Bengal | Last Updated: May 21, 2026 | 10:25 AM IST
ফলতা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই টানটান উত্তেজনার মধ্যে শুরু হয়েছে পুনর্নির্বাচন। তবে ভোটের আবহের মাঝেই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের প্রাক্তন প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করার পর বৃহস্পতিবার ভোটের সকাল থেকে কার্যত বেপাত্তা তিনি। এমনকি, যে বুথে আগেরবার ভোট দিয়েছিলেন, সেখানেও দেখা যায়নি তাঁকে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর বাড়িতেও ঝুলছে তালা।
গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। বহু ভোটার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ ছিল, একাধিক বুথে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এরপর নির্বাচন কমিশন গোটা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়।
আজ সেই পুনর্নির্বাচনের দিন। সকাল থেকেই ফলতার বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে। বিশেষ করে হাসিম নগর হাই স্কুলের ১১০ ও ১১০A নম্বর বুথে সকাল থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় ভোটারদের একাংশের দাবি, গত ১৫ বছর ধরে ভয়ের পরিবেশে ভোট হয়েছে এলাকায়। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তাঁরা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারছেন।
একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, “এবার প্রথমবার মনে হচ্ছে স্বাধীনভাবে ভোট দিচ্ছি। আগে অনেক ভয় ছিল। আজ সেই ভয় নেই।”
বেপাত্তা জাহাঙ্গির, বাড়িতে তালা
ফলতার শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৯০ এবং ১৯২ নম্বর বুথেও সকাল থেকেই লম্বা লাইন দেখা যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগের ভোটে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এই কেন্দ্রেই ভোট দিয়েছিলেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। এলাকাবাসীদের একাংশের বক্তব্য, সকাল থেকে তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গিয়েছে।
জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল এলাকায়। বিরোধীদের অভিযোগ, ফলতায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস এবং ভোটে প্রভাব বিস্তারের পিছনে তাঁর অনুগামীদের বড় ভূমিকা ছিল।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব।
পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে জাহাঙ্গির খানের প্রার্থিপদ প্রত্যাহার ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছিল।
‘আজ ভয় নেই’, বলছেন ভোটাররা
বানেশ্বরপুর আদর্শ বিদ্যামন্দিরের ১১৫ নম্বর বুথেও সকাল থেকেই উৎসাহী ভোটারদের লাইন দেখা যায়।
অভিযোগ, গত ২৯ এপ্রিল এই বুথে জাহাঙ্গির খানের অনুগামীরা ভোটে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছিল। ভোটারদের একাংশের দাবি, সেই সময় বুথে “টেপ এবং আতর” লাগিয়ে ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানো হয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবারের চিত্র ছিল একেবারে আলাদা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলতে দেখা যায়।
ভোটারদের একাংশ বলেন, “আজ কোনও সমস্যা নেই। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে শান্তিতে ভোট দিচ্ছেন।”
মহিলা ভোটারদের মধ্যেও উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সকাল সকাল ভোট দিয়ে কাজে যাওয়ার জন্য বুথে হাজির হন।
মূল লড়াই বিজেপি বনাম বাম
জাহাঙ্গির খান প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করায় ফলতায় মূল লড়াই এখন বিজেপি এবং বামেদের মধ্যে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা। অন্যদিকে CPM প্রার্থী শম্ভুনাথ কুড়মি। কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুর রজ্জাক।
বিজেপির দাবি, ফলতার মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিচ্ছেন।
অন্যদিকে বামেদের বক্তব্য, তৃণমূল সরে যাওয়ায় প্রকৃত বিরোধী শক্তি হিসেবে মানুষের সমর্থন পাচ্ছে CPM।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানো এই কেন্দ্রের সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে।
২৮৫ বুথে কড়া নিরাপত্তা
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ২৮৫টি বুথে বৃহস্পতিবার পুনর্নির্বাচন হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন।
প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রাজ্য পুলিশ এবং কুইক রেসপন্স টিম।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনওভাবেই ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন না ঘটে।
একাধিক বুথে ওয়েবকাস্টিং এবং ভিডিও নজরদারির ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে এবং এখনও পর্যন্ত বড় কোনও অশান্তির খবর নেই।
রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে ফলতার
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই পুনর্নির্বাচন শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট নয়, বরং ২০২৬ সালের রাজ্য রাজনীতির বড় বার্তাও বহন করছে।
বিশেষ করে ভোট বাতিল হওয়ার পরে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এবং তারপর তৃণমূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো— এই দুই ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে।
ভোটারদের একাংশের দাবি, এবার তাঁরা কোনও ভয় ছাড়াই ভোট দিতে পারছেন। আর সেটাই এই পুনর্নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বার্তা।
ফল ঘোষণার আগে এখন নজর থাকবে ভোটের শতাংশ এবং কোন দিকে যাচ্ছে ভোটের ফলাফল।
আগামী ২৪ মে ফলতার পুনর্নির্বাচনের গণনা হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন
About the Author
NewsLinkBangla Political Desk
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, নির্বাচন, প্রশাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাবলির নির্ভরযোগ্য ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন পাঠকদের সামনে তুলে ধরে নিউজলিংক বাংলার সম্পাদকীয় টিম।
Tags: #FaltaElection #FaltaRePoll #WestBengalElection #JahangirKhan #BJP #CPM #WestBengal #BreakingNews #NewsLinkBangla #Election2026
