Header Ads Widget

Responsive Advertisement

‘এর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রী হয় না’, শুভেন্দু অধিকারীকে প্রশংসায় ভরালেন মিঠুন

‘গ্যারান্টি দিয়ে বলছি এঁর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রী হয় না,’ শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা মিঠুনের, হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন পরস্পরকে

Published By: NewsLinkBangla | West Bengal | Last Updated: May 16, 2026 | 12:40 PM IST

Mithun Chakraborty and Suvendu Adhikari Meeting

কলকাতা: বাংলার রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণের আবহ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পালাবদলের রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও টাটকা। সেই আবহেই শনিবার সকালে নিউটাউনে অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘক্ষণ বৈঠক, রাজনৈতিক আলোচনা, হাসি-মজার মুহূর্ত এবং সাংবাদিকদের সামনে একে অপরের ভূয়সী প্রশংসা— সব মিলিয়ে দিনের শুরুতেই জমে উঠল বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম আলোচিত সাক্ষাৎ।

শনিবার সকাল থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছিল ব্যস্ত কর্মসূচি। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে প্রথমে তাঁর যাওয়ার কথা ছিল ডায়মন্ড হারবারে, পরে নন্দীগ্রামে। কিন্তু তার আগেই তিনি পৌঁছে যান নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে অবস্থিত মিঠুন চক্রবর্তীর ফ্ল্যাটে।

প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে দু’জনের মধ্যে কথা হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলার নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের প্রতীকী বার্তাও বহন করছে।

‘বাংলার এর চেয়ে ভাল মুখ্যমন্ত্রী হতে পারে না’

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন চক্রবর্তী যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মিঠুন বলেন, “গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এর থেকে ভাল মুখ্যমন্ত্রী বাংলায় হতে পারে না। আমরা সত্যিই ভাগ্যবান। যেদিন থেকে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকেই তিনি কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আগামী দিনে আরও অনেক ভাল কাজ করবেন।”

মিঠুনের এই মন্তব্যে সাংবাদিক বৈঠকের পরিবেশ মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে মিঠুনকে জড়িয়ে ধরেন শুভেন্দু অধিকারীও।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত প্রশংসা নয়, বরং বিজেপির নতুন সরকারকে ঘিরে জনমানসে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কৌশলও হতে পারে।

‘নেপথ্য কারিগরদের মধ্যে অন্যতম মিঠুন’

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও মিঠুন চক্রবর্তীর অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “উনি নিরলস পরিশ্রম করেছেন। চেষ্টা, লড়াই, সংগ্রাম— সবকিছুর মধ্য দিয়ে গিয়েছেন। বাংলায় পরিবর্তনের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পেছনে মিঠুন চক্রবর্তীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

শুভেন্দু আরও বলেন, “বাংলার রাষ্টবাদী মানুষদের বাঁচানোর জন্য এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। নির্বাচনের আগে আট-দশ মাস ধরে সাংগঠনিক কাজ করেছেন। দল তাঁকে পদ দিতে চাইলেও তিনি কোনও পদ নেননি।”

এরপরই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছি কারণ বিজেপি আমাকে নমিনেট করেছে। কিন্তু এই জয়ের নেপথ্য কারিগরদের মধ্যে অন্যতম নাম মিঠুন চক্রবর্তী।”

এই বক্তব্যের পর মিঠুন চক্রবর্তীর মুখে হাসি দেখা যায় এবং দু’জনকে একে অপরকে আলিঙ্গন করতেও দেখা যায়।

ছাব্বিশের নির্বাচনে ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ মিঠুন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। নির্বাচনের আগে একাধিক জেলা সফর, সভা, মিছিল এবং জনসংযোগ কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছিল।

বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তাঁর সভাগুলিতে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল। বিজেপির রাজনৈতিক কৌশলে মিঠুনকে ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার সিনেমাপ্রেমী এবং মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে মিঠুনের জনপ্রিয়তা বিজেপির প্রচারে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছিল।

শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, নিজের ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রামের গল্প, বাংলার সংস্কৃতি নিয়ে আবেগঘন মন্তব্য এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ— এই সবই তাঁকে ভোটের প্রচারে আলাদা মাত্রা দিয়েছিল।

তৃণমূল থেকে বিজেপি: মিঠুনের রাজনৈতিক যাত্রা

রাজনীতিতে মিঠুন চক্রবর্তীর পথচলা বেশ নাটকীয়। ২০১৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত হয়েছিলেন তিনি।

তৎকালীন সময়ে তৃণমূলের অন্যতম তারকা মুখ হিসেবে দেখা হত তাঁকে। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হয়। ২০১৬ সালে রাজ্যসভার সাংসদের পদ থেকে ইস্তফা দেন মিঠুন।

এরপর দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বাংলার রাজনীতিতে তিনি আবারও গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর বিখ্যাত ‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে’ মন্তব্য নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়েছিল, তেমনই সমর্থকদের মধ্যে উন্মাদনাও দেখা গিয়েছিল।

সৌজন্যের রাজনীতি না কি কৌশলগত বার্তা?

শনিবারের এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং বাংলার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক।

মিঠুন চক্রবর্তীকে সামনে রেখে বিজেপি যে আগামী দিনেও সাংগঠনিক এবং জনসংযোগ রাজনীতিতে জোর দিতে চাইছে, তার ইঙ্গিতও এই বৈঠকে স্পষ্ট।

একইসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সমীকরণও দলের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিজেপির বর্তমান সরকার জনসংযোগ এবং আবেগের রাজনীতিকে সমান গুরুত্ব দিতে চাইছে। আর সেই জায়গায় মিঠুন চক্রবর্তীর জনপ্রিয়তা এবং শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক ভাবমূর্তি একসঙ্গে দলকে বাড়তি শক্তি দিতে পারে।

ডায়মন্ড হারবারের পথে মুখ্যমন্ত্রী

নিউটাউনে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষ করেই ডায়মন্ড হারবারের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সেখানে প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরে নন্দীগ্রামেও যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার গঠনের পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি যে সমানভাবে সক্রিয়, শনিবারের এই ব্যস্ত কর্মসূচিই তার বড় উদাহরণ।

About the Author

NewsLinkBangla News Desk
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, প্রশাসন, নির্বাচন ও গুরুত্বপূর্ণ চলতি ঘটনাবলির নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন পাঠকদের সামনে তুলে ধরে নিউজলিংক বাংলার সম্পাদকীয় টিম।

Tags: #MithunChakraborty #SuvenduAdhikari #WestBengal #BJP #BengalPolitics #Kolkata #BreakingNews #NewsLinkBangla #DiamondHarbour #Nandigram