মাসের পর মাস পরিকল্পনা, সীমান্তের ওপার থেকে নিয়ন্ত্রণ! পহেলগাঁও হামলার চার্জশিটে সামনে এল বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য
Published By: NewsLinkBangla | India | Last Updated: May 21, 2026 | 11:20 PM IST
নয়াদিল্লি: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে সামনে এল একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে উঠে এসেছে, এই হামলা কোনও হঠাৎ সিদ্ধান্ত ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গোটা হামলার ছক কষা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তদন্তে এমন ইঙ্গিতও মিলেছে যে সীমান্তের ওপার থেকেই পুরো অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তইবা এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ বা TRF-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, স্থানীয় জঙ্গি মডিউল ব্যবহার করে হামলা চালানো হলেও গোটা পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা এসেছে সীমান্তের ওপার থেকে। :contentReference[oaicite:0]{index=0}
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকাকে। কারণ ওই এলাকায় সরাসরি গাড়ি পৌঁছয় না এবং নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তদন্তকারীদের মতে, পর্যটকদের উপর হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে বড় বার্তা দেওয়াই ছিল জঙ্গিদের উদ্দেশ্য। :contentReference[oaicite:1]{index=1}
এই হামলায় মোট ২৬ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল। তদন্তে জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়নি। বরং পর্যটকদের পরিচয় জেনে বেছে বেছে হামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। :contentReference[oaicite:2]{index=2}
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরিকল্পিত হামলার লক্ষ্য শুধু প্রাণহানি নয়, বরং উপত্যকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা এবং পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা দেওয়া।
কীভাবে তৈরি হয়েছিল হামলার ব্লুপ্রিন্ট?
তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিট অনুযায়ী, হামলার অনেক আগে থেকেই উপত্যকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে জঙ্গি মডিউলগুলি।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই লশকরের ছায়া সংগঠনগুলি নতুন করে সক্রিয় হতে শুরু করে জম্মু ও কাশ্মীরে। ধীরে ধীরে তারা স্থানীয় যোগাযোগ বাড়ায় এবং বিভিন্ন এলাকায় রেকি চালায়। :contentReference[oaicite:3]{index=3}
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলার আগে বহুবার বৈসরন উপত্যকায় গোপনে যাতায়াত করেছিল জঙ্গিরা। পর্যটকদের ভিড়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং পালানোর সম্ভাব্য পথও খতিয়ে দেখা হয়েছিল।
তদন্তকারীদের দাবি, জঙ্গিরা সেনা এবং পুলিশের পোশাক ব্যবহার করেছিল যাতে সাধারণ মানুষ সহজে সন্দেহ না করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা হামলার পরিকল্পনা অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় করা হয়েছিল।
হাফিজ সইদের নামও উঠে আসছে তদন্তে
তদন্তকারী সূত্রে দাবি, লশকর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদের নামও এই হামলার তদন্তে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, সীমান্তের ওপার থেকে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে শুধু মতাদর্শগত নয়, প্রযুক্তিগত এবং লজিস্টিক সহায়তাও দেওয়া হত। এই গোটা নেটওয়ার্কে লশকরের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। :contentReference[oaicite:4]{index=4}
বিশেষ করে TRF-কে সামনে রেখে কাশ্মীরে নতুন করে নাশকতার পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছিল বলেও দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর উপত্যকায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হওয়ার পরে জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেদের কৌশলও বদলাতে শুরু করে।
TRF-র মতো সংগঠনগুলিকে সেই নতুন কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
চার্জশিটে কী কী তথ্য?
তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে হামলার গোটা টাইমলাইন, পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং অর্থের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, হামলায় জড়িত জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকেছিল এবং স্থানীয় সহযোগিতাও পেয়েছিল।
একাধিক ডিজিটাল প্রমাণ, ফোন রেকর্ড, জঙ্গিদের গতিবিধি এবং সাক্ষীদের বয়ানকে ভিত্তি করেই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার আগে দীর্ঘ সময় ধরে উপত্যকায় লুকিয়ে ছিল জঙ্গিরা।
তদন্তকারী সংস্থার মতে, গোটা অপারেশনটি “highly coordinated terror strike” ছিল। :contentReference[oaicite:5]{index=5}
ভারত-পাক সম্পর্কেও পড়েছিল প্রভাব
পহেলগাঁও হামলার পরে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কেও ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
হামলার পর ভারত কড়া কূটনৈতিক এবং সামরিক অবস্থান নেয়। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরে কাশ্মীর প্রশ্নকে ফের সামনে আনতে চেয়েছিল জঙ্গি সংগঠনগুলি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ পর্যটকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোই ছিল সবচেয়ে বড় বার্তা।
কারণ কাশ্মীরের পর্যটন শিল্প গত কয়েক বছরে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল।
পর্যটন শিল্পে বড় ধাক্কা
পহেলগাঁও হামলার পরে উপত্যকার পর্যটন শিল্পেও বড় প্রভাব পড়ে।
বহু পর্যটক সফর বাতিল করেন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় দেশজুড়ে।
যদিও পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা শুরু হয় প্রশাসনের তরফে।
কাশ্মীর প্রশাসন এবং কেন্দ্র সরকার পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে একাধিক পদক্ষেপও নেয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে উপত্যকায় জঙ্গি কার্যকলাপ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তদন্ত এখনও চলছে
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, চার্জশিট জমা পড়লেও তদন্ত এখনও শেষ হয়নি।
জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের খোঁজে অভিযান চলছে বলে জানা গিয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তের ওপার থেকে কীভাবে যোগাযোগ এবং অর্থের জোগান আসছিল, তা নিয়েও তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, পহেলগাঁও হামলার তদন্ত আগামী দিনে আরও বড় আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের তথ্য সামনে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে এই চার্জশিট শুধু একটি জঙ্গি হামলার তদন্ত নয়, বরং সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অভিযোগকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুন
About the Author
NewsLinkBangla National Desk
দেশের নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, প্রশাসন এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনাবলি নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজলিংক বাংলার সম্পাদকীয় টিম।
Tags: #Pahalgam #Kashmir #TerrorAttack #NIA #India #Pakistan #TRF #LashkarETaiba #BreakingNews #NewsLinkBangla
