এল সপ্তম পে কমিশন, DA কবে? সরকারের ঘোষণার পর দিন গুনছেন রাজ্যের শিক্ষকেরা
Published By: NewsLinkBangla | West Bengal | Last Updated: May 20, 2026 | 11:10 AM IST
নিউজলিংক বাংলা: তৃণমূল আমলে বহু আর্জি, আন্দোলন, ধর্না দিয়েও কাঙ্খিত ডিএ (Dearness Allowance) মেলেনি। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে পালাবদল হওয়ার পর বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের দিকে তাকিয়ে ছিলেন শিক্ষকেরা। কিন্তু মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আর তা নিয়েই নতুন করে হতাশা তৈরি হয়েছে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের একাংশের মধ্যে।
বিগত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে ডিএ ইস্যু কার্যত বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় অনেক কম হারে ডিএ পাওয়ার অভিযোগ তুলে একাধিকবার পথে নেমেছেন শিক্ষক, সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা।
বিশেষ করে ভোটের আগে প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতার দাবিতে গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে সামিল হন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। সেই সময় আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির তরফে দাবি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা ডিএ দ্রুত মেটাতে হবে এবং কেন্দ্রীয় হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে রাজ্য সরকারকে।
এরপর রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়, কোন পদ্ধতিতে মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে তা নিয়ে বিস্তারিত মতামত এবং প্রশাসনিক কাঠামো জানাতে। সেই সময় থেকেই শিক্ষক মহলে আশার সঞ্চার হয়েছিল যে খুব দ্রুত হয়তো ডিএ সংক্রান্ত জট কাটতে পারে।
গত পয়লা এপ্রিল তৎকালীন তৃণমূল সরকারের অর্থ দফতর শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের ডিএ কীভাবে মেটানো হবে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও করে। সেখানে ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।
সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষা দফতরের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কীভাবে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো সম্ভব। সেই বিষয়ে ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা SOP জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে শিক্ষাদপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নবান্নে পৌঁছয়। কিন্তু তারপরেও বাস্তবে খুব একটা অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষক সংগঠনগুলির।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টে চলা ডিএ মামলাও এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অভিযোগ উঠেছিল, তৎকালীন রাজ্য সরকার আদালতে জমা দেওয়া ৬২ পাতার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’-এ কৌশলে ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’ প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গিয়েছে। এই নিয়েও শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল।
নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেক শিক্ষকেরই আশা ছিল, প্রথম কয়েকটি মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যেই ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা হতে পারে। বিশেষ করে সপ্তম পে কমিশন গঠনের আলোচনা শুরু হওয়ায় সেই প্রত্যাশা আরও বেড়েছিল।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত ডিএ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা সামনে না আসায় হতাশা বাড়ছে শিক্ষক মহলে।
এই বিষয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, “সপ্তম পে কমিশনের কথা বলা হলেও মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে আমরা হতাশ।”
তবে তিনি একইসঙ্গে আশাও প্রকাশ করেন যে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথে এগোবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি, বকেয়া ডিএর বিশাল অঙ্ক এবং সুপ্রিম কোর্টে চলা মামলা— সব মিলিয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
তবে শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের একাংশের বক্তব্য, শুধু আশ্বাস নয়, এবার দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মহার্ঘ ভাতা এখন কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন
About the Author
NewsLinkBangla News Desk
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা, প্রশাসন, সরকারি কর্মচারী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও আর্থিক বিষয় নিয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজলিংক বাংলার সম্পাদকীয় টিম।
Tags: #DA #DearnessAllowance #Teachers #WestBengal #GovernmentEmployees #WBTeachers #PayCommission #BreakingNews #NewsLinkBangla #SuvenduAdhikari
