Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর পর এবার পুলিশের নজরে মেয়ে! পুজোর পাস মামলায় নতুন মোড়

ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রীর পর এবার পুলিশের নজরে মেয়ে! দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড়

নিজস্ব সংবাদদাতা | NewsLinkBangla | কলকাতা

ছবি: NewsLinkBangla

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তে নতুন মোড়। প্রাক্তন মন্ত্রী ও সংগীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে চলা তদন্তে এবার তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার তাঁর মেয়েকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর।

কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী দল সংশ্লিষ্ট সংস্থা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করছে। তবে ইন্দ্রনীল সেনের মেয়েকে তলবের বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।

স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলায় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে লালবাজারে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর কাছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাজকর্ম, আর্থিক লেনদেন এবং বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চান।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা করছেন।

মেয়ের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন

তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে কয়েকটি সংস্থার মধ্যে অর্থ স্থানান্তর। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, 'মাস আর্ট সোসাইটি' (MassArt Society)-এর সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের মধ্যে 'আইস্কেপ' (iScape) এবং 'মায়রা' (Maira) নামে দুটি সংস্থার নাম উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে প্রায় ৬৬ লক্ষ টাকার লেনদেন এবং তার মধ্যে ২২.৪৭ লক্ষ টাকা ওই দুটি সংস্থায় স্থানান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থের উৎস, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এই সংস্থাগুলির সঙ্গে ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে খবর।

কী এই MassArt Society বিতর্ক?

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করেই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ পাস বিক্রির ক্ষেত্রে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হয়। কিন্তু ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও নাম ব্যবহার করে কোনও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল কি না, তা নিয়েই তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তৈরি হয়েছে।

তদন্তে কলকাতা পুলিশ ও ED

এই ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচারের দিক খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বিভিন্ন সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, পাস বিক্রি থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় জমা হয়েছিল, কীভাবে তা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেই অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?

তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং আর্থিক নথি যাচাইয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ইন্দ্রনীল সেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির লেনদেন সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

তবে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা বা কোনও সংস্থার আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

NewsLinkBangla-এর প্রতিবেদন

দুর্গাপুজোর মতো বাংলার ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে কেন্দ্র করে ওঠা এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে মামলা, তাঁর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মেয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা সংস্থাগুলির আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখার খবর সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর থাকবে।


সংবাদসূত্র

Internet 

Tags: ইন্দ্রনীল সেন, Indranil Sen, ইন্দ্রনীল সেনের মেয়ে, মধুছন্দা সেন, MassArt Society, দুর্গাপুজোর পাস বিতর্ক, কলকাতা পুলিশ, লালবাজার, ED Investigation, Kolkata News, West Bengal News, Bengali News, NewsLinkBangla

Disclaimer: এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। মামলার তদন্ত চলছে। কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।


NEWSLINKBANGLA
বাংলার খবর, বাংলার ভাষায়।

News Archive